কেজিপ্রতি সবজির দাম বেড়েছে ৫ থেকে ২০ টাকা, পরিবহন ভাড়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
মেহেরাব হোসেন অপি, মেহেরপুর প্রতিনিধি
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে মেহেরপুরের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজির বাজারে। কয়েকদিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ।
মেহেরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে সেই বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে খুচরা মূল্যের সঙ্গে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি খরচে পণ্য আনতে হচ্ছে তাদের। এতে বাধ্য হয়ে কিছুটা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।
মেহেরপুর হোটেল বাজারের ব্যবসায়ী আব্বির শেখ বিশাল বলেন, “আমরা পাইকারিতে বেশি দামে কিনছি এবং এজন্যই আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন খরচও বেড়েছে। এই চাপটা সম্পূর্ণ পড়ছে খুচরা ক্রেতাদের ওপর।”
কানন শেখ জানান, “আমাদের বস্তাপ্রতি বিভিন্ন মালামাল কিনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দিয়ে। এছাড়াও পরিবহন খরচ তো রয়েছেই। তাই আমাদেরও কেজিপ্রতি বেশি দামে খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্য না কমা পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে না।”
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে এসেও আগের মতো পণ্য কেনা যাচ্ছে না। আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
মেহেরপুর শহরের ঘাটপাড়া থেকে বাজার করতে আসা তাসনিমুল হাসান সাকিব বলেন, “প্রতিদিন বাজারে এসে দেখা যায় একেকদিন একেক রকম দাম। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত, কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এত জিনিসের দাম বাড়লে আমরা যাব কোথায়, এর বিচার দেব কার কাছে?” তিনি প্রশাসনের বাজার তদারকিতে জোর দেওয়ার দাবি জানান।
মেহেরপুরের আমঝুপি থেকে বাজার করতে আসা সজীব আহমেদ বলেন, “বাজারে আসতেই ভয় লাগে। আগে ১ হাজার টাকার বাজার করলে বাজার ব্যাগ ভর্তি হয়ে যেত, এখন এক কোণও ভর্তি হয় না। একটা সবজি কিনতে গেলেও ১০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে দিন আনে দিন খাওয়া মানুষ।”
মেহেরপুর তহবাজার ব্যবসায়ী সমিতি বড়বাজারের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়বে, এটি স্বাভাবিক। তবে এর সুযোগ নিয়ে যদি অতিরিক্ত পরিবহন খরচ আদায় করা হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে। এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।”
ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় কোথাও কোথাও পরিবহন ভাড়া আরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তাই পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবহন খাতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাই বাজারে পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।





